➡ব্যাফোমিট হচ্ছে সবচেয়ে পুরনো এবং সকল শয়তানি বিদ্যার সম্মিলিত একটি মূর্তি। ইলুমিনাতি,ফ্রিম্যাসন, লুসিফারিয়ানরা শয়তান বা ইবলিসের উদ্দেশ্যে এই ব্যাফোমিটকে পূজা করে থাকে। এলিপাস লিবাই ঊনিশ শতকে সকল প্রকার শয়তানি বিদ্যাকে একএিত করে পুনরায় একটি ব্যাফোমিট অঙ্কন করেন। যা ইসলামের নিষিদ্ধ দিকগুলোকে represent করে। মূলত এই ব্যাফোমিট প্রাচীনযুগেও ছিল কিন্তু তখন এর নাম ভিন্ন ভিন্ন ছিল। যেমন- হুবাল,বা'ল দেবতা আরো অনেক কিছু। প্রাচীনযুগের বা'ল, হুবালই বর্তমান যুগের ব্যাফোমিট।
👉লহ্ম করুন ব্যাফোমিটের মাথাটি দেখতে ছাগলের মাথার মত। এখন প্রশ্ন থাকতে পারে ব্যাফোমিটকে কেন ছাগলের মাথা দেওয়া হয়েছে? এর দুটি কারণ হতে পারেঃ
১. এটি হেক্সাগ্রামের ভিত্তিতে আঁকা। আর হেক্সাগ্রাম হল বদজ্বীনদের জগতে প্রবেশ করার চাবিকাঠি। যেটি ব্যাফোমিটের কপালেও রয়েছে।
২. এটি ট্রি অফ কাব্বালাহ স্ট্রাকচারের ভিত্তিতে আঁকা। আর কাব্বালাহ হল এমনি এক শক্ত যাদুবিদ্যা যা কিনা ব্যবিলন সভ্যতায় দুই ফেরেশতা হারুত ও মারুতের উপর নাজিল হয়েছিল।
👉এই ব্যাফোমিটের ভেতর নারীর স্তন ও পুরুষাঙ্গ রয়েছে। যা কিনা নারী ও পুরুষ উভয়ের বৈশিষ্ট্য বহন করে। মানে হচ্ছে একটি মানুষের ভেতর নারী ও পুরুষের উভয়েরই বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। সে নারী পুরুষ উভয়েরই সাথে মিলন করতে পারে। যা কিনা নবী লূহ (আ:) এর সময়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। কেননা তার সময়ে এতটাই সমকামিতা বেড়ে গিয়েছিল যে,আল্লাহ তায়ালা গবজস্বরুপ পুরো কাফেরনগরীকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।
👉এবার আসি ব্যাফোমিটের মাথার দুই শিং ও এর মাঝখানে থাকা টর্চ বা মশালের কথায়। এই টর্চটিকে তারা শয়তানি শিহ্মার উৎস এবং এটি যে উজ্জ্বল সেটি বুঝাতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়াও নমরুদকে represent করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কেননা নমরুদ নিজেকে সূর্যের দেবতা বা রা দেবতা বলে আখ্যায়িত করেছিল।
📖আমাদের মহানবী (সা:) বলেন, "তোমরা সূর্যাস্ত এবং সূর্য উদয়ের সময় নামাজ পড়ো না "। কারণ এই সময় শয়তান দাঁড়িয়ে থাকে এবং শয়তানের দুই শিং এর মাঝখানে সূর্য উদিত হয় ও অস্ত যায়। আর এ জন্যই ব্যাফোমিটের দুই শিং এর মাঝখানে সূর্যের আলো বা মশাল ব্যবহার করা হয়।
👉তারপর দেখুন, ব্যাফোমিটের পেছনে কালো ডানা দেখা যাচ্ছে। আমাদের মহানবী (সা:) তিনধরণের জ্বীনের কথা বলেছেন যার মধ্যে একটি হল ডানাবিশিষ্ট জ্বীন। আর আমরা জানি ইবলিস পথভ্রষ্ট হয়ে যাওয়ায় আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেয় তাই ইবলিসকে Fallen Angel বলা হয়। আর পথভ্রষ্ট বা খারাপ জ্বীন বুঝাতে কালো পাখা ব্যবহার করা হয়।
👉এরপর লহ্ম করুন সাদা ও কালো চন্দ্র। এখানে সাদা দ্বারা ভালো এবং কালো দ্বারা খারাপকে বুঝানো হয়েছে। কেননা এই দুটি কালার একটি অপরটির বিপরীত। আবার দেখুন, একটি হাত সাদা চন্দ্রের দিকে তাক করা এবং আরেকটি হাত কালো চন্দ্রের দিকে তাক করা। এটি দ্বারা As Above, So Below বুঝায়। মানে হল, ভালো এবং খারাপ দুটিই একই জিনিস। একটি মানুষের ভেতর এই দুই বৈশিষ্ট্যই থাকতে পারে। এতে কোন পাপ হবে না। এটা অনেকটা এক পয়সার এপিঠ ওপিঠ।
📖এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা সূরা হা-মীম সেজদাহ এর ৩৪ নং আয়াতে বলেন,"সমান নয় ভাল ও মন্দ। জওয়াবে তাই বলুন যা উৎকৃষ্ট। তখন দেখবেন আপনার সাথে যে ব্যক্তির শুত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু"। আল্লাহ আমাদের খারাপ কাজ করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু শয়তানের টার্গেটই হল মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করা। তাই তারা ভালো ও মন্দকে এক জিনিস বানিয়ে মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করছে।
💐বাকি বর্ণনা ২য় পর্বে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।🔚
